হযরত মুহাম্মদ (দ:) কে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ তায়ালা কিছুই সৃষ্টি করতেন না।

হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আপনাকে সৃষ্টি না করলে গোটা জগতকে সৃষ্টি করতামনা।

এ কথাটি কতটুকু বিশুদ্ধ? ইদানিং লামাযহাবী, ওয়াহাবীরা বলে বেড়াচ্ছে যে এটা নাকি মানুষের বানানো কথা যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একটু বিস্তারিত জানতে চাই।

জবাবঃ ___________________

প্রথমতঃ লা-মাযহাবীরা অনেক চেষ্টা করছে, একথাটি ভিত্তিহীন বলে জনগণের কাছে তা তুলে ধরা। কিন্তু এটা তাদের হয়তঃ মূর্খতা, আর নয়তঃ ভেতরের শয়তানীরই বহিঃপ্রকাশ—

এ দুটুর যে কোন একটি হবে।

মূল আলোচনাঃ___________________

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, এ হাদীসের সনদে দুর্বলতা থাকলেও হাদীসের যে অর্থ “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি করা হতো না’-এ কথাটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ।

যেমন,

বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস মুল্লা আলী কারী বলেন,

একথাটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ।

রেফারেন্সঃ

আল আসরারুল মারফুআহ- ১/২৯৫

কারণ, অন্যান্য সনদে বর্ণিত বিভিন্ন হাদীস এ কথাকে শক্তিশালী করেছে। সুতরাং এ কথার উপর সন্দেহ পোষণ করার কোন অবকাশ নেই।

তন্মধ্যে একটি হাদীসঃ

——————————— হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম আলাইহিস সালাম দোয়া করলেন, হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের উসীলা নিয়ে আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আল্লাহ বললেন, হে আদম, তুমি কীভাবে মুহাম্মাদকে চিনলে, আমি তো এখনো তাকে সৃষ্টি করিনি? তিনি বললেন, হে আল্লাহ, যখন তুমি আমাকে সৃষ্টি করলে, আমি তখন আমার মাথা উত্তোলন করলাম এবং দেখলাম আরশের খুঁটির উপর লেখা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ”। তখন আমি বুঝতে পারলাম, তোমার নিকট সৃষ্টির সবচেয়ে প্রিয় না হলে তুমি তোমার নামের সাথে তার নাম মিলাতে না। তখন আল্লাহ বললেন, তুমি সত্য বলেছ, হে আদম। তিনিই হচ্ছেন আমার নিকট সৃষ্টির সবচেয়ে প্রিয়। যখন তুমি তার উসীলা নিয়ে আমার নিকট দোয়া করেছ, তাই তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। আর (জেনে রাখ) মুহাম্মাদ না হলে (সৃষ্টি না করলে) তোমাকে সৃষ্টি করতাম না।

রেফারেন্সঃ

দালাইলুন নুবুওওয়াহ-৫/৪৮৯

আল হাকিম-২/৬১৫

তাহকীকঃ

____________________

ইমাম তকী উদ্দীন সুবকী বলেন, হাদীসটি হাসান পর্যায়ের।

রেফারেন্সঃ

শিফা উস সাকাম-১২০

ইমাম হাকিম বলেন, হাদীসটি সহীহ।

রেফারেন্সঃ

আল মুসতাদরাক-২/৬১৫

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এর স্বীকৃতিঃ

________________________

যারা আজ এ অপপ্রচার করছে, সেই লা মাযহাবীদের শায়েখ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এই হাদীসটি তার কিতাবে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদি এটা ভিত্তিহীনই হতো, তবে কেন তিনি তা তার কিতাবে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন? তিনি কি জানতেন না, কোনটা সহীহ আর কোনটা বানোয়াট?

তিনি ‘যদি মুহাম্মাদ না হতেন, তবে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না’-এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন,

এ হাদীসটি পূর্বের কথাকে কথাকে শক্তিশালী করেছে।

রেফারেন্সঃ

মাজমু উল ফাতাওয়া- ২/১৫৯

ভাবুন,

ভিত্তিহীন কোন কথা দিয়ে কি কোন কিছু শক্তিশালী করা যায়?

ইমাম ইবনু কাসীরের স্বীকৃতিঃ

___________________

ইমাম ইবনু কাসীর পরিস্কার বলেছেন, এই হাদীসটি মাওযু বা বানোয়াট নয়।এটা দ্বারা নির্দ্বিধায় দলীল প্রদান করা যাবে।

ইমাম ইবনু কাসীর বলেছেন, হাদীসের বর্ণনাকারী আব্দুর রাহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম মিথ্যাবাদী নন। এবং এ হাদীসটি ও জাল নয়। বরং হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী। এমন হাদিস দ্বারা দলীল প্রদান করা যাবে নিঃসন্দেহে। দেখুন, আসসীরাহ- ১/১৯৫.

রেফারেন্সঃ

আস সীরাতুন নাবাওইয়্যাহ- ১/১৯৫

হাদীস নং-২: হাকিম তাঁর ‘মোসতাদরেক’ গ্রন্থে এবং আবূ শায়খ নিজ ‘তাবকাত আল-ইসফাহানী’ পুস্তকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, যিনি বলেন: “আল্লাহ পাক হযরত ঈসা (আ:)-কে বলেছেন, ওহে ঈসা! মহানবী (দ:)-এর প্রতি ঈমান আনো এবং তোমার উম্মতকেও তা করতে বলো। রাসূলুল্লাহ (দ:) না হলে আমি আদমকে সৃষ্টি করতাম না, বেহেশত বা দোযখও সৃষ্টি করতাম না।” (ইমাম তাকিউদ্দীন সুবকী রচিত ‘শিফাউস্ সিকাম’ ও শায়খুল ইসলাম আল-বুলকিনী প্রণীত ‘ফতোওয়া’ এবং ইবনে হাজর রচিত ‘আফদাল আল-কুরআন’ গ্রন্থগুলোতেও উদ্ধৃত)

হাদীস নং-৩: ইমাম দায়লামী নিজ ‘মুসনাদ আল-ফেরদউস’ কেতাবে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেন, যিনি বলেন: “রাসূলে খোদা (দ:) বলেছেন যে হযরত জিবরীল আমীন (আ:) তাঁর কাছে আসেন এবং উদ্ধৃত করেন আল্লাহর বাণী, ‘আমি (খোদা স্বয়ং) আপনাকে (রাসূল-এ-পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে) সৃষ্টি না করলে বেহেশত বা দোযখ সৃষ্টি করতাম না’।”

হাদীস নং-৪: ইবনে আসাকির উদ্ধৃত করেন হযরত সালমান ফারিসী (রা:)-কে, যিনি বলেন: “হযূর পূর নূর (দ:)-এর কাছে জিবরীল আমীন (আ:) এসে পৌঁছে দেন আল্লাহর বাণী, ‘(হে রাসূল) আপনার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কাউকেই আমি সৃষ্টি করি নি। আমি বিশ্বজগত ও এর মধ্যে যা কিছু আছে তার সবই সৃষ্টি করেছি যাতে তারা জানতে পারে আপনার মহান মর্যাদা সম্পর্কে। আমি এই বিশ্বজগত সৃষ্টি করতাম না, যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম’।”

হাদীস নং-৫: ইমাম শেহাবউদ্দীন ইবনে হাজর আসকালানী বলেন, “এই সকল বর্ণনা ব্যক্ত করে যে মহানবী (দ:)-কে সৃষ্টি করা না হলে আল্লাহতা’লা আসমান-জমিন, বেহেশ্ত-দোযখ, চন্দ্র-সূর্য কিছুই সৃষ্টি করতেন না।”

উদ্ধৃতি-১: ইমাম সাইফুদ্দীন আবূ জা’ফর বিন উমর আল-হুমাইরী আল-হানাফী নিজ ‘আদ-দুররূল তানযীম ফী মওলিদিন্ নাবিই-ইল করীম’ শীর্ষক কেতাবে বলেন: আল্লাহতা’লা যখন হযরত বাবা আদম (আ:)-কে সৃষ্টি করেন, তখন তিনি তাঁর মনে এই ভাবের উদয় করেন যার দরুণ তিনি মহান প্রভুকে প্রশ্ন করেন, ”এয়া আল্লাহ! আপনি আমার কুনিয়া (বংশ-পরম্পরার নাম) কেন ’আবূ মোহাম্মদ’ (মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের পিতা) করেছেন?” আল্লাহ উত্তরে বলেন, “ওহে আদম! তোমার মাথা তোলো।” তিনি শির উঠিয়ে আরশে মহানবী (দ:)-এর নূর (জ্যোতি) দেখতে পান। হযরত আদম (আ:) জিজ্ঞেস করেন, “এয়া আল্লাহ! এই নূর কোন্ মহান সত্তার?” আল্লাহতা’লা জবাবে বলেন, “তোমার বংশেই এই মহান নবী (দ:)-এর জন্ম। আসমানে তাঁর নাম আহমদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এবং জমিনে মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)। আমি তাঁকে সৃষ্টি না করলে তোমাকে বা আসমান ও জমিনকে সৃষ্টি করতাম না।”

 

উদ্ধৃতি-২: সাইয়্যেদ আবূল হুসাইন হামদূনী শাযিলী তাঁর ‘কাসিদায়ে দা’লিয়া’তে লেখেন: “প্রিয়নবী (দ:) হলেন সারা বিশ্বজগতের মধ্যমণি এবং সকল সৃষ্টির কারণ (অসিলা)। তিনি না হলে কিছুই অস্তিত্ব পেতো না।”

উদ্ধৃতি-৩: ইমাম শরফউদ্দীন আবূ মোহাম্মদ বুসিরী তাঁর কৃত ‘কাসিদা-এ-বুরদা’ কাব্য-পুস্তকে লেখেন: “রাসূলুল্লাহ (দ:) না হলে দুনিয়া অস্তিত্বশীল হতো না।”

উদ্ধৃতি-৪: ইমাম বুসিরী (রহ:)-এর কাব্যের ব্যাখ্যামূলক পুস্তকে ইমাম শায়খ ইবরাহীম বাইজুরী লেখেন: “হুযূর করীম (দ:) অস্তিত্বশীল না হলে বিশ্বজগত-ই অস্তিত্বশীল হতো না। হযরত আদম (আ:)-কে আল্লাহ বলেন, ‘মহানবী (দ:) অস্তিত্বশীল না হলে আমি তোমোকে সৃষ্টি করতাম না। হযরত আদম (আ:) হলেন মনুষ্যজাতির আদি পিতা, আর পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই মানুষের জন্যে সৃষ্ট। তাই হযরত আদম (আ:)-কে যেহেতু রাসূলে খোদা (দ:)-এর অস্তিত্বের কারণে সৃষ্টি করা হয়েছে, সেহেতু সমগ্র জগতই মহানবী (দ:)-এর কারণে সৃষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়। অতএব, সকল অস্তিত্বশীল সত্তার সৃষ্টির কারণ হলেন বিশ্বনবী (দ:)।”

উদ্ধৃতি-৫: কাসিদা-এ-বুরদা কাব্য সম্পর্কে আল্লামা খালেদ আযহারী মন্তব্য করেন: “রাসূলে পাক (দ:)-এর কারণেই দুনিয়া অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব পেয়েছে।”

উদ্ধৃতি-৬: মোল্লা আলী কারী লেখেন: ”রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর আশীর্বাদ ও মহত্ত্ব ছাড়া সমগ্র এই বিশ্বজগত অস্তিত্ব পেতো না এবং আল্লাহ ছাড়া কিছুই অস্তিত্বশীল থাকতো না।”

উদ্ধৃতি-৭: আল্লামা আবূল আয়াশ আবদুল আলী লাখনৌভী নিজ ‘ফাওয়াতিহ আর-রাহমূত শরহে মোসাল্লাম আস্ সুবূত’ পুস্তকে লেখেন: “রাসূলে খোদা (দ:) অস্তিত্বশীল না হলে সৃষ্টিকুল আল্লাহর রহমত-বরকত (আশীর্বাদ)-ধন্য হতো না।”

মহানবী (দ:) সৃষ্টিকুলের অস্তিত্বের মূল, এই প্রতিপাদ্য বিষয়ের সত্যতা ও প্রামাণিকতা সম্পর্কে বিতর্ক একমাত্র মূর্খ লোকেরাই করতে পারে। হুযূর পূর নূর (দ:)-এর কারণেই আল্লাহ পাক সমগ্র বিশ্বজগত সৃষ্টি করেন।

English sub title:

*Hakim narrated it in al-Mustadrak al Sahihayn (Volume No. 2, Page No. 651, Hadith No. 4228) It was transmitted through many chains and was cited by Bayhaqi (in Dala’il al-nubuwwa), Abu Nu`aym (in Dala’il al-nubuwwa), al-Hakim in al-Mustadrak (2:615), al-Tabarani in his Saghir (2:82, 207) with another chain containing sub-narrators unknown to Haythami as he stated in Majma` al-zawa’id (8:253), and Ibn `Asakir on the authority of `Umar ibn al-Khattab, and most of these narrations were copied in Qastallani’s al-Mawahib al-laduniyya (and al-Zarqani’s Commentary 2:62). 1. This hadith is declared sound (sahih) by al-Hakim in al-Mustadrak (2:651, Hadith No. 4228), although he acknowledges Abd al-Rahman ibn Zayd ibn Aslam, one of its sub-narrators, as weak. However, when he mentions this hadith he says: “Its chain is sound, and it is the first hadith of Abd al-Rahman ibn Zayd ibn Aslam which I mention in this book”; al-Hakim also declares sound another version through Ibn `Abbas. Imam Hakim (rah) also narratesالعدل إملاء ، ثنا هارون بن العباس الهاشمي ، ثنا جندل بن والق ، ثنا عمرو بن أوس الأنصاري ثنا سعيد بن أبي عروبة ، عن قتادة ، عن سعيد بن المسيب ، عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: أوحى الله إلى عيسى عليه السلام: يا عيسى آمن بمحمد وأمر من أدركه من أمتك أن يؤمنوا به، فلولا محمد ما خلقت آدم ولولا محمد ما خلقت الجنة ولا النار، ولقد خلقت العرش على الماء فاضطرب فكتبت عليه لا إله إلا الله محمد رسول الله فسكن. هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه Translation: Ibn Abbas (ra) narrates that Allah inspired Isa (a.s) saying O Isa, believe in Muhammad (salallaho alaihi wasalam), and whosoever form your Ummah finds him should believe in him, If I had not created Muhammad (salallaho alaihi wasalam) then I would not have created Adam, If not for him I would not have created the paradise and hell, When I made the throne on Water, it started to shake, I wrote La Ilaha Il Allah Muhammad ur Rasul Ullah, due to which it became still [Imam Hakim in Mustadrak ala Sahihayn, Volume No. 2, Page No. 609, Hadith No. 4227]– Imam Hakim after narrating it said: This Hadith has Sahih chain. 2. Imam Tabaran in his Mu’jam Al-Ausat Narrated by Umar bin al-Khattab Allah’s Messenger (Peace Be Upon Him) said: When Adam committed the error, he submitted (to Allah): O Lord, I beg You to forgive me through the mediation of Muhammad. Then Allah said: O Adam! How did you recognize Muhammad as I have not created him yet? He replied: O Lord, when You created me with Your divine hand and breathed Your soul into me, I raised my head and saw ‘la ilaha illallahu Muhammad-ur-rasulullah (“There is no god but Allah, Muhammad is Allah’s Messenger”)’ inscribed on each pillar of the Throne. I discovered that with Your name, the name of only such a person can be associated who is Your most beloved of all the creatures. At this Allah said: O Adam, you have said it correctly. Of all the creatures I love him the most. Now when you offered your prayer through his mediation, I forgave you. And if Muhammad were not there, I would not have created even you. Reference ►Tabarani Mu’jam Al-Ausat Volume 006, Page No. 313-314, Hadith Number 6502

*Imam al-Bulqini declares this hadith of Adam (a.s)’s Tawassul to be sound in his Fatawa. 4. al-Subki confirms al-Hakim’s authentication (in Shifa’ al-siqam fi ziyarat khayr al-anam p. 134-135) although Ibn Taymiyya’s rejection and criticism of this hadith was known to him and he rejects it, as well as saying that Ibn Taymiyya’s extreme weakening of Ibn Zayd is exaggerated. 5. Imam Qadhi Iyaad (rah) considered it Sahih and famous because he narrated it under the Chapter No. 3 of his Ash-Shifa in which he said: This Chapter is about “SAHIH AND FAMOUS” narrations (الباب الثالث فيما ورد من صحيح الأخبار و مشهورها), and he says that Abu Muhammad al-Makki and Abu al-Layth al-Samarqandi mention it; Qadi `Iyad says: “It is said that this hadith explains the verse: ‘And Adam received words from his Lord and He relented towards him’ (2:37)”; he continues to cite another very similar version through al-Ajurri (d. 360), about whom al-Qari said: “al-Halabi said: This seems to be the imam and guide Abu Bakr Muhammad ibn al-Husayn ibn `Abd Allah al-Baghdadi, the compiler of the books al-Shari`a devoted to the Sunna, al-Arba`un, and others.'” This is confirmed by Ibn Taymiyya in his Qa`ida fi al-tawassul: “It is related by Shaykh Abu Bakr al-Ajurri, in his book al-Shari`a.” 6. Ibn al-Jawzi also considers it sound (sahih) as he cites it in the first chapter of al-Wafa bi ahwal al-mustafa, in the introduction of which he says: “(In this book) I do not mix the sound hadith with the false,” although he knew of `Abd al-Rahman ibn Zayd’s weakness as a narrator; he also mentions the version of Maysarat al-Fajr whereby the Prophet says: “When satan deceived Adam and Eve, they repented and sought intercession to Allah with my name”; Ibn al-Jawzi also says in the chapter concerning the Prophet’s superiority over the other Prophets in the same book: “Part of the exposition of his superiority to other Prophets is the fact that Adam asked his Lord through the sanctity (hurmat) of Muhammad that He relent towards him, as we have already mentioned.” 7. Suyuti cites it in his Qur’anic commentary al-Durr al-manthur (2:37) and in al-Khasa’is al-kubra (1:12) and in al-Riyad al-aniqa fi sharh asma’ khayr al-khaliqa (p. 49), where he says that Bayhaqi considers it sound; this is due to the fact that Bayhaqi said in the introduction to the Dala’il that he only included sound narrations in his book, although he also knew and explicitly mentions `Abd al-Rahman ibn Zayd’s weakness; 8. Ibn Kathir mentions it after Bayhaqi in al-Bidayat wa al-Nihaya (1:75, 1:180) where he points towards weakness of Abdur Rahman bin Zayd bin Aslam

*al-Haythami in Majma` al-zawa’id (8:253 #28870), al-Bayhaqi himself, and al-Qari in Sharh al- shifa’ show that its chains have weakness in them. However, the weakness of Abd al-Rahman ibn Zayd was known by Ibn al-Jawzi, Subki, Bayhaqi, Hakim, and Abu Nu`aym, yet all these scholars retained this hadith for consideration in their books. 10. Three scholars reject it outright a) Ibn Taymiyya (Qa`ida jalila fi al-tawassul p. 89, 168-170) and his two students b) Ibn `Abd al-Hadi (al-Sarim al-munki p. 61-63) and c) al-Dhahabi (Mizan al-i`tidal 2:504 and Talkhis al-mustadrak), while `Asqalani reports Ibn Hibban’s saying that `Abd al-Rahman ibn Zayd was a forger (Lisan al-mizan 3:360, 3:442). 11. At the same time, Ibn Taymiyya elsewhere quotes it and the version through Maysara and says: “These two are like the elucidation (tafsir) of the authentic ahadith (فهذا الحديث يؤيد الذي قبله وهما كالتفسير للأحاديث الصحيحة. ) (Fatawa 2:150). The contemporary Meccan hadith scholar Ibn `Alawi al-Maliki said: “This indicates that Ibn Taymiyya found the hadith sound enough to be considered a witness for other narrations (salih li al-istishhad wa al-i`tibar), because the forged (al-mawdu`) and the false (al-batil) are not taken as witness by the people of hadith”; al-Maliki also quotes (without reference) Dhahabi’s unrestrained endorsement of the ahadith in Bayhaqi’s Dala’il al-nubuwwa with his words: “You must take whatis in it (the Dala’il), for it consists entirely of guidance and light.” (Mafahim yajib an tusahhah p. 47).

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s